টয়োটা মোটর করপোরেশনের বৈশ্বিক উৎপাদন অক্টোবরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ২৬ হাজার ৯৮৭ ইউনিটে। এটি প্রায় দুই বছরের মধ্যে কোনো এক মাসে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ উৎপাদন। উত্তর আমেরিকায় হাইব্রিড গাড়ির শক্তিশালী চাহিদা এ প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। জাপান টুডে।
টয়োটার বৈশ্বিক বিক্রি অক্টোবরেও বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় বিক্রি ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ২২ হাজার ৮৭ ইউনিটে। এ নিয়ে অক্টোবরে টানা ১০ মাস কোম্পানিটির বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি হলো।
বিদেশে টয়োটার উৎপাদন বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বেড়েছে ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ, সংখ্যায় যা ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৬২ ইউনিট। গত বছরের কিছু মডেল প্রত্যাহারজনিত কারণে যে উৎপাদন স্থগিত হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে পারায় এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা এখনো শক্তিশালী রয়েছে।
অন্যদিকে চীনে টয়োটার উৎপাদন কমেছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। সরকারিভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে ভর্তুকি প্রত্যাহার করায় দেশটিতে গাড়ি বিক্রি কমেছে।
দেশী বাজারে টয়োটার উৎপাদন ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৩২ ইউনিটে। বিশ্লেষকরা বলেন, ২০২৪ সালের সার্টিফিকেশন কেলেঙ্কারির পর উৎপাদনে যে ধস নেমেছিল, অক্টোবরের তথ্য তা থেকে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়।
বিদেশে টয়োটার বিক্রি বেড়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ২ লাখ ৭ হাজার ৯১০ ইউনিটে। ভারতে বিক্রি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ, যেখানে কর–সুবিধা গাড়ি বিক্রি বাড়িয়েছে। তবে চীনে বিক্রি কমেছে ৬ দশমিক ৬ ও জাপানে ৪ দশমিক ২ শতাংশ।
জাপানের শীর্ষ আট গাড়ি নির্মাতার সম্মিলিত বৈশ্বিক উৎপাদন অক্টোবরে কমেছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কের প্রভাব এ খাতে স্পষ্ট হয়েছে। হোন্ডার উৎপাদন কমেছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। নেক্সপেরিয়া বিএভি চিপ সরবরাহ বন্ধ করায় মেক্সিকোয় তাদের কারখানার অস্থায়ী বন্ধের প্রভাব পড়েছে উৎপাদনে। নিসানের বৈশ্বিক উৎপাদন কমেছে ৫ শতাংশ। দেশী উৎপাদন কমেছে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে সুজুকির উৎপাদন বেড়েছে ৬ শতাংশ। ভারতে শক্তিশালী চাহিদা এ প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।